বাংলাদেশে আমদানি-রপ্তানি পণ্য পরিবহন

আমদানি ৪৬% সিঙ্গাপুর ও রপ্তানির ৪৯% কলম্বো বন্দর দিয়ে

0
677

নিজস্ব প্রতিবেদক-
কন্টেইনার জাহাজে আমদানি ও রপ্তানি দুই ধরনের পণ্য পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দর প্রধানত চারটি সমুদ্রবন্দরের ওপর নির্ভরশীল। এরমধ্যে সবচে বেশি ৪৪ শতাংশ পণ্য পরিবহন হয় সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে; ৩৭ শতাংশ পণ্য হয় শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে। এরপর মালয়েশিয়ার তানজুম পেলিপাস বন্দরে হয় সাড়ে ১২ শতাংশ এবং মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাঙ বন্দরের মাধ্যমে হয় ৭ শতাংশ। ২০২০ সালের জানুয়ারি-মার্চ তিনমাসের আমদানি ও রপ্তানি কন্টেইনার পরিবহনের চিত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। এই তথ্যের মধ্যে খোলা জাহাজে পণ্য পরিবহনের তথ্য নেই। অবশ্য ২০১৯ সালের আমদানি-রপ্তানি পরিবহন চিত্রের সাথে তুলনা করলে পণ্য পরিবহনে সিঙ্গাপুর বন্দরের ব্যবহার কমেছে; বেড়েছে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরের ব্যবহার।
কারণ জানতে চাইলে জিবিএক্স লিজিস্টিকস লিমিটেডের অ্যাসিসটেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট মুনতাসির রুবাইয়াত শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, বাংলাদেশ আমদানি পণ্য পরিবহনে সিঙ্গাপুর বন্দরকেই বেশি ব্যবহার করে; কারণ আমাদের বেশিরভাগ পণ্য আমদানি হয় চীন থেকে। আর কন্টেইনারটি চীন থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে চট্টগ্রাম পৌঁছা অনেক সহজ ও সময় সাশ্রয়ী। আর আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকা থেকে আমদানি পণ্য দেশে আসে কলম্বো বন্দর হয়ে।

মুনতাসির রুবাইয়াত বলছেন, রপ্তানির ক্ষেত্রে কলম্বো বন্দরই বেশি ব্যবহার করে বাংলাদেশ, কারণ আমাদের বেশিরভাগ রপ্তানি ইউরোপ-আমেরিকাতে। তাই কলম্বো দিয়ে সেই গন্তব্যে যাওয়া সহজ। তবে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আটকে পড়া রপ্তানি পণ্য পরিবহনে কলম্বো বন্দরের ব্যবহার বেড়েছে। এখন দ্রুত রপ্তানি পণ্য পাঠাতে চট্টগ্রাম থেকে কলম্বো হয়ে আরব-আমিরাতের জেবেল আলী সমুদ্র বন্দর পৌঁছছে। সেখান থেকে দুবাই আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দর হয়ে ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন গন্তব্যে যাচ্ছে।

জানতে চাইলে মার্কস লাইন বাংলাদেশের শীর্ষ কর্মকর্তা শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘নেটওয়ার্ক, টার্মিনাল সুবিধা এবং এলায়েন্সসহ অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে সিঙ্গাপুরকে বেছে নেয়া হয়। তবে পণ্য রপ্তানিতে ইদানিং সিঙ্গাপুরের বদলে শ্রীলংকার কলম্বো বন্দরকে বেছে নেয়া হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমাদের জাহাজের সাথে কলম্বো বন্দরের কানেকটিভিটি বেশ ভালো।

জাহাজের মেইন লাইন অপারেটরদের হিসাবে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি-মার্চ তিনমাসের হিসাবে আমদানিতে ৪৭ শতাংশই এসেছে সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে। আর রপ্তানিতে সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশই ছিল সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে। সেই সময় কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হয়েছে ২২ শতাংশ এবং রপ্তানি হয়েছে ৪৩ শতাংশ। ২০২০ সালের তিন মাসে এসে সেই চিত্র বদলেছে। এই সময়ে আমদানিতে ৪৬ শতাংশ সিঙ্গাপুর বন্দরের মাধ্যমে আসলেও রপ্তানিতে ৪৯ শতাংশ গেছে কলম্বো বন্দরের মাধ্যমে।
তবে আমদানি ও রপ্তানি দুই ধরনের পণ্য পরিবহনেই বিদেশি ক্রেতার ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় দেশের ব্যবসায়ীদের। বিদেশি একেক ক্রেতার সাথে পৃথক শিপিং লাইনের চুক্তি থাকে। ফলে সবসময় তারা সেই জাহাজ এবং লাইনেই পণ্য পাঠান।

জানতে চাইলে তৈরী পোশাক শিল্প মালিক ও ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের প্রেসিডেন্ট এস এম আবু তৈয়ব শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘রপ্তানি পণ্য কোন লাইন ও কোন বন্দর দিয়ে যাবে তা ঠিক করে বিদেশি ক্রেতারা। তারা কলম্বো বন্দরকে বেছে নিচ্ছেন কারণ, সেই বন্দরে ট্যারিফ কম। আর কানেকটিভিটিও ভালো। টাইমিংয়ে খুব সমস্যা না হলে তারা সিঙ্গাপুর বন্দর ব্যবহার করছে না।’
শিপিং কম্পানিগুলো জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্যবাহী কন্টেইনার সরাসরি ইউরোপ-আমেরিকায় যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে রপ্তানি পণ্যের কন্টেইনার নিয়ে ছোট বা ফিডার জাহাজে করে সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকার কলম্বো, মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং ও তানজুম পেলিপাস প্রধানত এই চার বন্দরে পৌঁছে। বন্দরে নামানোর পর সেই বন্দর থেকে কন্টেইনারগুলো বড় কন্টেইনার জাহাজ বা মাদার ভ্যাসেলে করে বিশ্বের বিভিন্ন বন্দরে পৌঁছানো হয়। আমদানি পণ্যের ক্ষেত্রেও একই রকম পদ্ধতি। চট্টগ্রাম বন্দরে সাড়ে ৯ মিটারের চেয়ে বড় জাহাজ ভিড়ার সুযোগ না থাকায় এই পদ্ধতি অনুসরন করতে হয়।
# ৫ আগস্ট ২০২০

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here