চট্টগ্রাম-কলকাতা নৌপথ : ছোট জাহাজে পণ্য পরিবহন জনপ্রিয় হচ্ছে

0
351

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাগরপথে বড় জাহাজে নয়, চট্টগ্রাম-কলকাতা নৌপথে পণ্য পরিবহন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশ ও ভারতের উপকূলীয় নৌ পথে চলাচল করছে ছোট ছোট কোস্টাল জাহাজ। কভিড-১৯ মহামারির সময় স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই রুটে পণ্য পরিবহন সবচে বেশি জনপ্রিয়তা পায়; সেটি এখনো অব্যাহত আছে।
এই রুট ব্যবহারকারী বলছেন, একবার যে এই রুটে পণ্য পরিবহন করেছেন, সে আর স্থলবন্দর দিয়ে আনার ঝক্কি নিতে চাইবেন না। এর কারণ হিসেবে তারা বলছেন, ভারত থেকে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহনের চেয়ে উপকূলীয় নৌ পথে পণ্য পরিবহনে খরচ কম ও সময় সাশ্রয়ী। এখন এই রুট দিয়ে কন্টেইনারে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে কাপড়-চোপড় এবং কসমেটিকস পণ্যও আসছে।

আগে সরকারী-বেসরকারী একাধিক জাহাজ নৌ রুটে চলাচল করলেও সেগুলো বেশিদিন সচল থাকেনি। বর্তমানে এই রুটে নিয়মিত চলাচল করছে তিনটি কোস্টাল জাহাজ। সেগুলো হলো, এমভি সেজুঁতি, এমভি মেরিন ট্রাস্ট ও ট্রান্স সামুদেরা। তিনটি জাহাজের পণ্য পরিবহন ক্ষমতা ১৭৫ একক থেকে সাড়ে ৩শ একক পর্যন্ত।
তিনটি জাহাজ পরিচালনাকারী ম্যাঙ্গো শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইয়াকুব সুজন ভ’ঁইয়া শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘২০১৭ সাল থেকে আমরা বাংলাদেশ-ভারত উপক’লীয় নৌ পথে পণ্য পরিবহন শুরু করি। এপর্যন্ত আমরা চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে ৮০টির অধিক ট্রিপ পরিচালনা করেছি। আর পাঁনগাও পর্যন্ত হিসাব করলে এই সংখ্যা বেড়ে ৯৫ অধিক হবে। তবে সবচে বেশি ট্রিপ করেছি কভিড-১৯ এর সময়কালে। এসময় প্রতিমাসে আমরা ৫টি পর্যন্ত ট্রিপ করেছি।’
তিনি বলছেন, মুলত লকডাউনের সময় স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকায় সব আমদানিকারক এই রুট দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করে। এখন ট্রিপ কমে প্রতিমাসে দুটিতে নেমেছে। এরপরও আমরা মনে করি সময় ও খরচ সাশ্রয়ের কারণে এই রুটে পণ্য পরিবহন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগে চট্টগ্রাম-কলকাতা রুটে পাথর, স্টিল সামগ্রী নিয়ে জাহাজ চলাচল করলেও এখন ছোট ব্যবসায়ীরা তাদের বিভিন্ন ধরনের পণ্য সড়কপথের বদলে নৌ পথে আনছেন। কারণ ভারতের শ্যামপ্রাসাদ মূখার্জি (সাবেক কলকাতা বন্দর) বন্দর থেকে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত উপক’লীয় নদীপথ পাড়ি দিতে সময় লাগছে মাত্র ২দিন।

জানতে চাইলে প্রান্তিক শিপিং লাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী গোলাম সারওয়ার শিপিং এক্সপ্রেসকে বলেন, কলকাতা সমুদ্রবন্দরের প্রবেশপথে বা চ্যানেলের গভীরতা বেশি না থাকায় বড় বাণিজ্যিক জাহাজ ভিড়তে পারে না। আর কলকাতা সমুদ্রবন্দর থেকে একসাথে ৫শ একক কন্টেইনার পাওয়া যায় না। দেড়শ থেকে দুইশ একক কন্টেইনার চট্টগ্রামে আসার জন্য জমে থাকে। ফলে আটশ একক ধারনক্ষমতার জাহাজ দিয়ে এখানে সফলতা মিলবে না। ছোট ছোট কোস্টাল জাহাজে আনলে সময় ও খরচ সাশ্রয় হয়। এই কারণে এখন সফলতা মিলছে; ২০১৭ সালে যখন আমরা প্রথম এই রুটে পণ্য পরিবহন চালু করেছিলাম তখন পণ্যের বুকিং অতটা ছিল না।

কোস্টাল জাহাজ পরিচালনাকারীরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকল চুক্তির আওতায় ছোট জাহাজে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে দুই দেশের জাহাজই বন্দরে ভিড়ার ক্ষেত্রে স্থানীূয় জাহাজ হিসেবে বিবেচিত হবে। জেটিতে ভিড়ার ক্ষেত্রে বানিজ্যিক জাহাজ হিসেবে গণ্য না করায় মাসুলও কম হবে; অর্থ্যাৎ দেশিয় জাহাজের মতোই হবে মাসুল। এছাড়াও এই কোস্টাল জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) একটি ছোট জেটিতে ভিড়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে বাণিজ্যিক জাহাজের মতো বহির্নোঙরে বাড়তি সময় কোস্টাল জাহাজকে অলস বসে থাকারও দরকার পড়ে না। এই কারণেও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই রুটে পণ্য পরিবহন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here